সভ্যতার ফুল ফোটানো হয় যেখানে, তার নাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সভ্যতা ও শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনে গড়ে ওঠে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় মহান নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খান তাঁর নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন ভালুম আতাউর রহমান খান ডিগ্রী কলেজ। সেই মহান মানুষটি যে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়ে গেছেন, সেটি তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেদীপ্যমান। আমি প্রতিষ্ঠানটির জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন সেই সকল মহান ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
আমরা যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, বিশেষ করে যারা শিক্ষক, তাঁদের সামাজিক দায়দায়িত্ব সমাজের অন্য দশটি মানুষের চেয়ে ভিন্ন। অন্য পেশার মানুষকে মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয় না। তাই শিক্ষকরা যে সম্মানটা পান তার বিনিময় যেন তাঁর কাজের মধ্যদিয়ে প্রকাশিত হয়। শিক্ষার উদ্দেশ্যই যেহেতু মনুষ্যত্ব অর্জন, শিক্ষার্থীদের সেই অর্জনের পেছনে শিক্ষককে সেই ভূমিকা নিরন্তরভাবে চালিয়ে যেতে হয়। মানবিক এবং সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার মধ্যদিয়ে আমাদের সে চেতনাকে আরও শাণিত করার প্রয়োজন রয়েছে। নব নব উদ্ভাবনের মধ্যদিয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষাটা দেওয়া যায়, তাদের গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এই ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের যুগেও বিশ্বে এমন এমন দেশ রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি বইমুখী। তাই চিন্তা-গবেষণার দ্বার আমাদের উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
ভালুম আতাউর রহমান খান ডিগ্রি কলেজকে ধামরাই অঞ্চলের একটি মডেল বা আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার এই পরিকল্পনা কেবল একজন অধ্যক্ষের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন গভর্নিং বডি, শিক্ষক মণ্ডলী, অভিভাবক, স্থানীয় সুধীসমাজ এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রয়াস। এই রূপরেখাটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলে কলেজটি শুধু ধামরাই নয়, বরং সমগ্র ঢাকা বিভাগের মধ্যে একটি অনুকরণীয় ও আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।